প্রতিদিন আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী, ছোট-বড় অনেকের সাথেই ভাব বিনিময় ও যোগাযোগ করতে হয়। এই ভাব বিনিময় ও যোগাযোগের মাধ্যমেই শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। অপরের সুবিধা-অসুবিধা দেখা, অপরের মতামত, অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং বুচিসম্মত ব্যবহারই শিষ্টাচার। শিষ্টাচার সভ্যতার প্রতীক, অন্তরের সৌন্দর্য। শিষ্টাচার প্রকাশের মাধ্যমে মনের সুন্দর দিকগুলো ফুটে ওঠে।
শৈশব কাল থেকেই শিষ্টাচার চর্চা বা অভ্যাস করতে হয়। জীবনকে সুন্দর ও সাফল্যময় করতে হলে, উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই শিষ্টাচারী হতে হবে। তোমরা যদি ভদ্রতা, শ্রদ্ধাবোধ, সৌন্দর্যবোধ, শালীনতা ও আদব-কায়দা বজায় রেখে সমাজে চলো তা হলেই শিষ্টাচার প্রকাশ পাবে। তোমরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তোমাদের সভ্য, সঠিক, সুন্দরভাবে গড়ে ওঠার মধ্যেই রয়েছে দেশ ও জাতির কল্যাণ।
মানুষ হিসেবে যে আচরণগুলো আমরা সবাই একে অপরের কাছে আশা করি তাই মানবীয় আচরণ বা গুণাবলি। যেমন- সহযোগিতা, সহানুভূতিশীলতা, সহমর্মিতা, ধৈর্যশীলতা, নম্রতা, ভদ্রতা, বিনয় ইত্যাদি। মানবীয় গুণাবলি পরিবার থেকে অর্জিত হয়। পরিবারে, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে মানবীয় গুণগুলো প্রকাশ পায়।
দলগত খেলার মাধ্যমে মানবীয় গুণাবলি সহজে বিকাশ লাভ করে। তোমরা যখন দলগতভাবে খেল তখন তোমাদের একে অপরকে সহযোগিতা করতে হয়। খেলার নিয়মকানুন মেনে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিতে হয়। দলের প্রতি বিনয়ী, সহানুভূতিশীল, ধৈর্যশীল এবং বন্ধুভাবাপন্ন হতে হয়। কেউ ব্যথা পেলে সেবা করতে হয়, সহমর্মিতা দেখাতে হয়। আবার তোমরা যদি নিজ স্বার্থ কিছুটা ত্যাগ করে অন্যের উপকার করতে পার তা হলে তোমাদের উদারতা প্রকাশ পায়। সুতরাং দেখা যায় মানবীয় গুণাবলি তোমাদের চরিত্রকে উন্নত করে।
এখন আমরা সাদিয়া সম্পর্কে জানব। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া। তার নম্রতা, ভদ্রতা, ন্যায়পরায়ণতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, উদারতা, বন্ধুত্বপূর্ণ আচার-ব্যবহার আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের সবাইকে মুগ্ধ করে। সে সব সময় বড়দের সালাম দেয় ও সম্মান করে, অতিথিদের সমাদর করে। দরিদ্র আত্মীয়-স্বজন, দরিদ্র প্রতিবেশী ও বাড়ির গৃহকর্মীর প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল ও বিনয়ী। সে ছোটদের স্নেহ করে ও ভালোবাসে।

সাদিয়া সহপাঠীদের সহযোগিতা করে। কখনও মিথ্যা কথা বলে না ও অন্যায় আচরণ করে না। কথা দিলে সেটা রক্ষা করে। নিজের দোষ-ত্রুটি সহজেই স্বীকার করে নেয়। তাই ছোট-বড় সবাই তাকে পছন্দ করে। সাদিয়া তার মা-বাবাকে খুব শ্রদ্ধা করে এবং আদর্শ হিসেবে অনুকরণ করে।
তোমরা দেখতে পারছ সাদিয়ার মানবিক গুণের জন্য সবাই তাকে পছন্দ করছে। তার মধ্যে যদি হিংসা, বিদ্বেষ, অহমিকা, দাম্ভিকতা থাকত, সে যদি মিথ্যা কথা বলত, কথা দিয়ে সেই কথা মতো কাজ না করত নিশ্চয়ই কেউ তাকে পছন্দ করত না। তাই তোমাদের সব সময় মানবীয় গুণাবলি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। যাতে সৃষ্টিকর্তা ও সব মানুষের প্রিয় হতে পার।
| কাজ-১ : সবাই যে আচরণগুলো পছন্দ করে এবং যে আচরণগুলো পছন্দ করে না তার তালিকা করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দরিদ্র সহপাঠী রানা অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বন্ধু জয় তার অন্যান্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় রানার চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।
দরিদ্র সহপাঠী রানা অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বন্ধু জয় তার অন্যান্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় রানার চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।
Read more